গার্মেন্ট শ্রমিকদের বেতন লুটতে সক্রিয় আট ডাকাতদল





বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে অনেক গার্মেন্ট শ্রমিক বেতন পাচ্ছেন না। আবার যাঁরা পাচ্ছেন, তাঁদের বেতনের টাকা লুটে নিতে সক্রিয় আটটি ডাকাতদল। এই সংঘবদ্ধ চক্রের পরিকল্পনার কথা জানার পর র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গার্মেন্ট মালিকদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি গাজীপুরে ইনক্রেডিবল ফ্যাশনস লিমিটেড নামে একটি গার্মেন্ট কারখানার প্রায় এক কোটি টাকা লুটের ঘটনায় পাঁচ ডাকাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁদের কাছে চাঞ্চল্যকর তথ্য পায় র‌্যাব। মো. জলিল নামে ডাকাত সদস্যদের দলনেতা স্বীকারোক্তিতে জানান, তাঁর দলের মতো আরো আটটি ডাকাতদল রয়েছে। যারা সুযোগ পেলেই গার্মেন্টের টাকা লুট করে।
ডাকাতদলের এই তত্পরতার তথ্য পেয়ে গার্মেন্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছে র‌্যাব। র‌্যাব সূত্র জানায়, করোনাভাইরাসের এই দুর্যোগে এমনিতেই দেশজুড়ে চলছে অস্থিরতা। গার্মেন্ট শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়েও রয়েছে অস্থিরতা। এই মহাদুর্যোগ পরিস্থিতে যে কয়টি কারখানা খোলা আছে, সেগুলোর ওপর শ্যোন দৃষ্টি দিয়েছে সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্র। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শ্রমিকের ছদ্মবেশে ঢাকা ও ঢাকার উপকণ্ঠ গাজীপুর এবং নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্ট কারখানায় সাধারণ শ্রমিকের বেশে এই ডাকাতচক্রের সদস্যরা কাজ নেন। তারপর শুরু করে তাঁদের গোপন তত্পরতা। গার্মেন্ট মালিকদের কাছাকাছি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে লোক নিয়োগ করে চক্রটি। এভাবে ডাকাতচক্র তথ্য সংগ্রহ করে শ্রমিকদের বেতনের টাকা কবে গার্মেন্ট মালিকরা ব্যাংক থেকে তুলবেন।
র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনাভাইরাসের মধ্যেও বসে নেই অপরাধীচক্র। সংঘবদ্ধ ডাকাতদল গার্মেন্টের টাকা লুট করার পাশাপাশি বাসাবাড়িতে ডাকাতি করার অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। এসব চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারে আমরা অভিযান শুরু করেছি।’
যেভাবে পরিকল্পনা : গ্রেপ্তার হওয়া ডাকাতচক্রের দলনেতা জলিল র‌্যাবকে জানান, সব গার্মেন্টেই তাঁদের টার্গেটে রয়েছে। প্রতিটি চক্রে একজন করে দলনেতা রয়েছেন। তাঁর নির্দেশে ডাকাত সদস্যরা গার্মেন্টে শ্রমিক, নিরাপত্তাকর্মীসহ অন্যান্য পদে যোগ দিয়ে ছদ্মবেশে তত্পর রয়েছে। সুযোগ পেলেই তারা শ্রমিকদের বেতনের টাকা লুট করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
পাঁচ মাস আগে সহযোগীদের নিয়ে গাজীপুর ইনক্রেডিবল ফ্যাশনস লিমিটেড গার্মেন্টের টাকা ডাকাতির পরিকল্পনার কথা স্বীকার করে জলিল র‌্যাবকে জানান, ওই গার্মেন্টের টাকা লুট করার আগে ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইসমাইল হোসেন ও মনোরঞ্জন মণ্ডলকে গার্মেন্টটিতে নিয়োগ দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে পরিকল্পনা অনুযায়ী দুবার ডাকাতির পরিকল্পনা ভেস্তে গেলেও তৃতীয়বার মাত্র ১০ মিনিটে ইনক্রেডিবল ফ্যাশনস লিমিটেড গার্মেন্টের শ্রমিকদের বেতনের ৮০ লাখ ২২ হাজার টাকা লুট করে তারা। জলিল ও তাঁর সহযোগীরা স্বীকারোক্তিতে জানায়, শুধু ইনক্রেডিবল গার্মেন্টই নয়, আরো অনেক গার্মেন্টের বেতনের টাকা লুটের টার্গেট ছিল তাদের।
টাকা লুটের পর ইনক্রেডিবল গার্মেন্টের জেনারেল ম্যানেজার (প্রডাকশন) খোরশেদ আলম কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা করেন। এরপর ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে র‌্যাব। গত শনিবার রাতে ঢাকা ও ঢাকার উপকণ্ঠের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এঁরা হলেন দলনেতা জলিল, সহযোগী সাগর মাহমুদ, রিয়াজ, ইসমাইল হোসেন মামুন ও মনোরঞ্জন মণ্ডল বাবু।
Collected News kalerkantho

Welcome to join our family. Apparel Merchandiser Club of Bangladesh Ltd. Est. On : 04-09-2009 Year 11 Govt. REG No:C 101387 । সদস্য হউন –MEMBERSHIP OPEN FOR ALL .আগ্রহীরা Kindly fill-up below Membership Form http://bit.ly/2DqMC3p

No comments

Welcome to join our family. Apparel Merchandiser Club of Bangladesh Ltd. Est. On : 04-09-2009 Year 11 Govt. REG No:C 101387 । সদস্য হউন –MEMBERSHIP OPEN FOR ALL .আগ্রহীরা Kindly fill-up below Membership Form http://bit.ly/2DqMC3p

Theme images by mariusFM77. Powered by Blogger.